মেয়ের মৃত্যুর দায়ে অভিযুক্ত বিজেপি নেতাকে রাজ্যপাল করার বিরুদ্ধে অঙ্কিতার বাবা-মা ইন্ডিয়া গেটের সামনে ধরনায় বসার অপরাধে আটক করল দিল্লি পুলিশ
মেয়েকে শারীরিক নিগ্রহ এবং খুনে অভিযুক্ত বিজেপি নেতা সম্প্রতি সিকিমের রাজ্যপাল হয়েছেন! তার প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের সামনে ধর্না-অবস্থানে বসেছিলেন উত্তরাখণ্ডের নিহত তরুণী অঙ্কিতা ভান্ডারীর বাবা-মা। ভোর ৪টে নাগাদ তাঁদের এবং আরও কয়েক জন অবস্থানকারীকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। আটক করা হয় কংগ্রেস নেতা পবন খেড়া, দলের মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনতে, যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি উদয়ভানু চিব-সহ কংগ্রেসের বেশ কয়েক জন নেতা-কর্মীকে। পরে অবশ্য সকলকেই ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় দিল্লি পুলিশ তো বটেই, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও আক্রমণ করেছে কংগ্রেস।
সমাজমাধ্যমে কংগ্রেসের তরফে একটি পোস্ট করে বলা হয়েছে, “ভিআইপি দুষ্মন্ত গৌতমকে বাঁচাতে নরেন্দ্র মোদী সব সীমা অতিক্রম করলেন। ভোর ৪টেয় পুলিশ পাঠিয়ে অঙ্কিতার বাবা-মাকে গ্রেফতার করা হল। প্রথমে দুষ্মন্তকে রাজ্যপাল করা হল। আর এখন মেয়ের জন্য বিচার চাওয়া বাবা-মায়ের কণ্ঠরোধ করা হল। লজ্জাজনক।” কংগ্রেসের অভিযোগ, সিআরপিএফ-কে সঙ্গে নিয়ে অবস্থানকারীদের আটক করতে গিয়েছিল দিল্লি পুলিশ।
চার বছর আগে ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর উত্তরাখণ্ডে খুন হয়েছিলেন অঙ্কিতা। ১৯ বছরের অঙ্কিতা হৃষীকেশের একটি রিসর্টে রিসেপশনিস্ট হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। তার ২০ দিনের মাথায় নিখোঁজ হয়ে যান। ছ’দিন পর একটি খাল থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযোগ, ওই রিসর্টে ‘যৌন পরিষেবা’ দিতে বাধ্য করা হত অঙ্কিতাকে। ‘ভিআইপি’র সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরির জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। তাতে রাজি না-হওয়ায় তাঁকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। হৃষীকেশের ওই রিসর্টের ম্যানেজার ছিলেন প্রাক্তন বিজেপি নেতা বিনোদ আর্যের পুত্র পুলকিত আর্য। অঙ্কিতাকে খুনের অভিযোগে তিনি জেল খাটছেন।
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা দলের তফসিলি জাতি মোর্চার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট দুষ্মন্ত গৌতমের যোগ রয়েছে বলে অঙ্কিতার পরিবারের অভিযোগ। তাদের দাবি, তদন্তে যে ‘ভিআইপি’র কথা উঠে এসেছে, অর্থাৎ যাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য অঙ্কিতাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল, তিনি এই দুষ্মন্ত। কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলিও তাঁকে নিয়ে সরব হয়েছিল। সম্প্রতি সেই দুষ্মন্তই সিকিমের রাজ্যপাল পদে নিযুক্ত হয়েছেন। তা মেনে নিতে পারছেন না কন্যাহারা বাবা-মা। তাঁদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডে সিবিআই তদন্তের রিপোর্ট না-আসা পর্যন্ত রাজ্যপাল হিসেবে দুষ্মন্তের নিয়োগকে স্থগিত রাখা হোক। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবিপূরণ না-হলে গোটা দেশে আন্দোলন শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অঙ্কিতার বাবা।
দুষ্মন্তকে রাজ্যপাল করার প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যায় অবস্থানে বসা অঙ্কিতার বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়ান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী এবং কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বাড্রা। ইন্ডিয়া গেটের সামনে তাঁরাও প্রতিবাদে শামিল হন। সূত্রের খবর, সোমবার দুষ্মন্তকে সিকিমের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করার পর মঙ্গলবারই অঙ্কিতার বাবা-মা রাহুলের দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার পর বুধবার ইন্ডিয়া গেটের সামনে দুষ্মন্তের নিয়োগের বিরুদ্ধে অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন তাঁরা। সেখানে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা। কন্যাহারা দম্পতির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা।

